বিশেষ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় গোপন করে এখন অনেকেই সাংবাদিক বনে গেছেন। তাদের অনেকেই সাংবাদিক সেজে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অন্তবর্তী কালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম উস্কানি দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহ নগরীতে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা। এরা প্রতিনিয়ত সমাজের বিশিষ্টজন, ব্যবসায়ী, পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তাদের অপপ্রচার থেকে বাদ যাচ্ছে না বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ছাত্রনেতারাও। তারা মূলত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের সোস হিসেবে কাজ করছে। সকল তথ্য সংগ্রহ করে তারা ভারতে পাঠিয়ে দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচারের শিকার ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ বা জিডি করলেও ময়মনসিংহের পুলিশকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ,যুবলীগ নেতা সেলিম সাজ্জাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। প্রশ্ন হলো কথিত সাংবাদিক পরিচয় দানকারী এই সকল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের থামাবে কে? যারাই থামাবে তাদের পাশেই চেয়ারে বসে থাকেন।
ময়মনসিংহ নগরীর যুবলীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহিনুরের অনুসারী সেলিম সাজ্জাদসহ ২৩ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ২৪ সালের পাশে আগষ্টের পর সাংবাদিক পরিচয় প্রকাশ্যে করছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সাকিব জানান, প্রাথমিক তালিকা করছি। যাচাই-বাছাই করে পুলিশ সুপার স্যারের কাছে পাঠাবো। নির্দেশনা পেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশের উপরে হামলার ঘটনায় উস্কানে যাতা হিসাবে তার নাম সামনে আসে।
ইতিমধ্যে সেলিম সাজ্জাদ ভুল তথ্য ছড়িয়ে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অর্থের বিনিময়ে পরাজিত অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়ে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী সোহেলকে ভিলেন চরিত্রে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করেছে চক্রটি। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র নেতা ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও সমর্থনকারী সাংবাদিকরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় অপচেষ্টাকারীদের গলায় বিষাক্ত ঢোল বেজে উঠেছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, যেসব হলুদ সাংবাদিক তথ্য প্রমান ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার একটা তালিকা তৈরি করছি। যাচাই-বাছাই শেষে দুটো সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা যেন নির্বাচনের কোন ধরনের সহিংসতার উস্কানি দিতে না পারে।